‘রিফর্ম উৎসব’-এর মাধ্যমে ত্রিপুরায় তৃণমূল স্তরে ওয়াটারশেড সংস্কার, কর্মসূচি ১৬টি স্থানে
প্রকাশিত ১ অক্টোবর ২০২৬
Republic Tripura Desk
আগরতলা: মাটি ও জল সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ মানুষের জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ওয়াটারশেড উন্নয়ন কর্মসূচির সাম্প্রতিক সংস্কারগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরায় শুরু হতে চলেছে ‘রিফর্ম উৎসব’।
দেশজুড়ে ৯,৫৯৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রামসভার মাধ্যমে এই কর্মসূচির প্রচার চালানো হবে। ত্রিপুরায় প্রথম পর্যায়ে সাতটি ওয়াটারশেড প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার লেম্বুছড়ায় ত্রিপুরা স্টেট ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার CEO শরদিন্দু দাস জানান, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ‘সবকী যোজনা সবকা বিকাশ’ বা পিপলস প্ল্যান ক্যাম্পেইনের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘রিফর্ম উৎসব’ শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে জেলা ও প্রকল্প স্তরে মোট ১৬টি স্থানে এই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, ওয়াটারশেড উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হল জল ও মাটি সংরক্ষণের মাধ্যমে জলনিরাপদ গ্রাম তৈরি করা। পাশাপাশি কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষক ও গ্রামীণ জনগণের আয় ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে দেশে প্রায় ৩.৪ কোটি হেক্টর জমি ওয়াটারশেড কর্মসূচির আওতায় এসেছে। ত্রিপুরায় WDC-PMKSY 2.0-এর অধীনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমি এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ওয়াটারশেড কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সংস্কারের ফলে প্রতি হেক্টরে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ সাত বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। সমতল এলাকায় প্রতি হেক্টরে বরাদ্দ ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ হাজার টাকা এবং পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা করার কথা জানানো হয়েছে।
শুধু জল সংরক্ষণ নয়, উন্নতমানের বীজ ও চারা ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, উদ্যানচাষ, কৃষিবন এবং স্থানীয় জলবায়ুর উপযোগী কৃষি ব্যবস্থার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ঝর্ণার জলকে কেন্দ্র করে ‘স্প্রিংশেড’ উন্নয়নের মাধ্যমে জলনিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ওয়াটারশেড উন্নয়নকে শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তাঁদের যুক্ত করাই ‘রিফর্ম উৎসব’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ‘ফাইল থেকে জীবনে সংস্কার’—এই ভাবনাকে সামনে রেখেই তৃণমূল স্তরে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।